ena
maisha
bioMed

‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ শ্লোগান নিয়ে মহাকাশ জয়ের পথে বাংলাদেশ

ঢাকা, ১০ মে, এবিনিউজ : ইতিহাস সৃষ্টি করতে দরজার ঠিক দোরগোড়ায় সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম দেশের কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’মহাকাশের ডানা মেলার আর কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা মাত্র। বাংলাদেশের ইতিহাসে যোগ হতে যাচ্ছে সাফল্যের আরেকটি পালক।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ইস্টার্ন টাইমজোন বিকেল ৪টায় এবং বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা ৪৭ মিনিট থেকে ৪টা ২২ মিনিটের মধ্যে যে কোনো সময় মহাকাশের পথে যাত্রা শুরু করবে স্বপ্নের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। এর মাধ্যমে বিশ্বের ৫৭তম স্যাটেলাইট ক্ষমতাধর দেশ হিসেবে জায়গা করে নেবে বাংলাদেশ।

নিয়ম ভেঙ্গে স্মৃতি হিসেবে লেখা থাকবে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’
মহাকাশে থাকা স্যাটেলাইটে সাধারণত স্মৃতি হিসেবে কোনো কিছুই লেখা থাকে না বা লিখে রাখার কোনো নিয়ম নেই। কিন্তু এক্ষেত্রে আরেকটি ইতিহাসের সাক্ষী হচ্ছে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট। স্মৃতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের গায়ে বাংলায় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানটি লেখা রয়েছে। এই স্লোগান নিয়েই মহাকাশে যাবে স্যাটেলাইটটি।

ফ্লোরিডার স্থানীয় সময় বুধবার একটি হোটেলে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সম্মানে স্পেসএক্সের দেওয়া নৈশভোজ শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

তারানা হালিম বলেন, কয়েক মাস আগে যখন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর অগ্রগতি দেখতে ফ্লোরিডা আসি তখন স্যাটেলাইট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থ্যালাস অ্যালেনিয়া স্যাটেলাইটের গায়ে স্মৃতি হিসেবে কিছু একটা লিখতে বলে।

সে সময় তারানা হালিম তাদের বলেন, স্যাটেলাইটের গায়ে আমার কিছু লেখার এখতিয়ার নেই। যদি এতে কারও নাম লিখতেই হয় তাহলে তা অবশ্যই আমাদের জাতির জনকের নাম লিখতে হবে। আর আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের স্লোগান হচ্ছে জয় বাংলা। তখন নিজ হাতে স্যাটেলাইটের গায়ে লিখে দেই ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দেশকে এগিয়ে যাওয়ার পথে অধ্যায়ের সূচনা করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে, বেতবুনিয়ায় দেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ স্থাপনের মাধ্যমে। সেই উপগ্রহই ছিল মহাকাশের সঙ্গে দেশের যোগাযোগের প্রথম সেতুবন্ধ। তখন বিদেশি স্যাটেলাইটের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া ছিল সেই ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের কাজ।

জাতির পিতা সেদিন স্বপ্নের যে বীজ বুনেছিলেন, তার পথ ধরেই আজ আকাশে উড়ছে দেশের প্রথম নিজস্ব স্যাটেলাইট। এর নামও জাতির পিতার নামেই, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী পরিকল্পনা, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান এবং দিকনির্দেশনায় বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আজ প্রবেশ করতে যাচ্ছে গৌরবময় বিশ্ব স্যাটেলাইট ক্লাবে।

সরাসরি সম্প্রচার হবে স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণ অনুষ্ঠান
যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ সংস্থা স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটের অত্যাধুনিক মডেল ‘ব্লক ফাইভ’ এ চড়ে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা ৪৭ মিনিট থেকে ৪টা ২২ মিনিটের মধ্যে যে কোনো সময় কেনেডি স্পেস সেন্টারের ঐতিহাসিক লঞ্চ কমপ্লেক্স ৩৯-এ থেকে মহাকাশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১। এই লঞ্চ কমপ্লেক্স থেকেই ১৯৬৯ সালে চন্দ্রাভিযানে রওনা হয়েছিল অ্যাপোলো-১১।

এদিকে, উৎক্ষেপণের সময় অনুযায়ী বাংলাদেশে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা ৪৭ মিনিট থেকে ৪টা ২২ মিনিটের মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের ঐতিহাসিক মুহূর্তটি বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ দেশের সব স্যাটেলাইট টিভি এবং অনলাইন সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করেছে। এ ছাড়া দেশের সব জেলা ও উপজেলাতেও সরাসরি সম্প্রচারের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

এরই মধ্যে কেনেডি স্পেস সেন্টার টুইটার এক বার্তায় এই উৎক্ষেপণের সাক্ষী হতে সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এ জন্য কেনেডি স্পেস সেন্টারের পক্ষ থেকে ভিজিটর কমপ্লেক্সে দর্শকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

আগ্রহীরা সারা দিনের জন্য টিকেট কেটে কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড থেকে প্রায় ৩ দশমিক ৯ মাইল দূরে অ্যাপোলো/স্যাটার্ন ভি সেন্টার এবং প্রায় সাড়ে ৭ মাইল দূরে মূল ভিজিটর কমপ্লেক্স থেকে এই উৎক্ষেপণ দেখার সুযোগ পাবেন।

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ ওয়েবে বিশ্বব্যাপী লাইভ সম্প্রচার করবে স্পেসএক্স। www.spacex.com/webcast থেকে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী হতে পারবেন সকলেই। ইউটিউবে স্পেসএক্সের চ্যানেলেও লাইভ সম্প্রচার করা হবে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট নিয়ে ফ্যালকন-৯ ব্লক ফাইভ রকেটের যাত্রা।



স্পেসএক্স এবারই প্রথম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে তাদের ফ্যালকন-৯ রকেটের ব্লক ফাইভ মডেল ব্যবহার করতে যাচ্ছে। ব্লক ফাইভ স্পেসএক্সের একটি অনন্য রকেট, যা পুনরায় ব্যবহারযোগ্য।

স্পেসএক্স কর্তৃপক্ষের মতে, এই রকেট উৎক্ষেপণের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এটি আবারও উড়তে সক্ষম। এমনকি এটি ১০ বার পর্যন্ত বহন কাজে সক্ষম। মূলত মহাকাশে একই রকেটের মাধ্যমে একাধিকবার নভোচারী বহনের উপযোগী হিসেবেই ব্লক ফাইভ রকেট নির্মাণ করা হয়েছে। তবে নাসার নিয়ম অনুযায়ী, নভোচারী বহনের আগে এটিকে ৭ বার মানুষবিহীন ফ্লাইট পরিচালনা করতে হবে। আর এক্ষেত্রে আজ বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট নিয়ে প্রথমবারের মতো উড়তে যাচ্ছে ব্লক লাইভ রকেট।

স্যাটেলাইট স্থাপনের মাধ্যমে একদিকে বাংলাদেশকে যেমন আর অন্য দেশের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে না তেমনি দেশের অভ্যন্তরীণ টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায়ও ঘটবে যুগান্তকারী এক বিপ্লব।

চলুন জেনে নেয়া যাক বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর সুবিধাসমূহ
বর্তমানে দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে স্যাটেলাইট ভাড়া নিয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এজন্য বছরে ব্যয় হয় প্রায় ১২৫ কোটি টাকা। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট চালু হলে অনেকাংশেই কমে আসবে এ ব্যয়। শুধু তাই নয়, একই সঙ্গে দেশের টাকা থেকে যাবে দেশেই।

স্যাটেলাইটের তরঙ্গ ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয়েরও সম্ভাবনা রয়েছে। টেলিভিশন চ্যানেল ছাড়াও ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, ভি-স্যাট ও বেতারসহ ৪০ ধরনের সেবা পাওয়া যাবে এ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে।

যেকোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে টেরিস্ট্রিয়াল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট দেশে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পরিবেশ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ই-সেবা নিশ্চিত করবে।

স্যাটেলাইটের কার্যক্রম পুরোপুরিভাবে শুরু হলে আশপাশের কয়েকটি দেশে টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার সেবা দেয়ার জন্য জিয়োসিক্রোনাস স্যাটেলাইট সিস্টেমের গ্রাউন্ড সিস্টেমসহ সব ধরনের সেবা পাওয়া যাবে।

এছাড়া আবহাওয়ার পূর্বাভাস, টেলিমেডিসিন, ই-লার্নিং, ই-রিসার্চ, ভিডিও কনফারেন্স প্রতিরক্ষা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ভালো তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাবে এ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে। নতুন দিগন্ত খুলে যাবে অন্যান্য বিভিন্ন খাতেও।

প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার নিজস্ব স্যাটেলাইট রয়েছে। এ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের ফলে নেপাল, মিয়ানমার, ভুটান ও অন্যান্য দেশের কাছে সেবা ভাড়া দিতে পারবে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করা যাবে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে। এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে। বাকি ২০টি ট্রান্সপন্ডার বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির জন্য রাখা হবে।

প্রাথমিক এসব সুবিধা শুধুমাত্র বাংলাদেশ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোকে দেয়া সম্ভব হলেও পরে এর পরিসর বিস্তৃতি ঘটবে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর ও পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলোর কাছে স্যাটেলাইট সুবিধা ভাড়া অথবা বিক্রি করতে পারবে বাংলাদেশ।

এ স্যাটেলাইট বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদে সেবা প্রদান করবে; যার পরিসর হবে বৃহৎ, বিশ্বমানের, নির্ভরযোগ্য, বহুমুখী এবং সুপার পারফরম্যান্স নির্ভর।

গত ৪ মে ফ্লোরিডার কেপ কেনেডি স্পেস সেন্টারে নতুন এই রকেটের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে বিটিআরসি। গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের কথা থাকলেও ফ্লোরিডায় ‘ইরমা’ ঝড় এবং প্রতিকূল আবহাওয়াজনিত কারণে কয়েক দফা পিছিয়ে নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ মে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের পিছনে ব্যয় হচ্ছে ২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। ১ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা বিদেশি চুক্তি এবং বাকি ১ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।

২০১৫ সালের ২১ অক্টোবর সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় ‘স্যাটেলাইট সিস্টেম’ কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর প্রায় দুই হাজার কোটি টাকায় ‘স্যাটেলাইট সিস্টেম’ কিনতে ফ্রান্সের থালেস এলিনিয়া স্পেসের সঙ্গে চুক্তি করে বিটিআরসি।

স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে অর্থায়নের জন্য এইচএসবিসি ব্যাংকের সঙ্গে গতবছর প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার ঋণচুক্তি করে বাংলাদেশ সরকার।

ফ্রান্সের থ্যালেস এলিনিয়া স্পেস ফ্যাসিলিটিতে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নির্মিত হয়েছে। নির্মাণ, পরীক্ষা, পর্যালোচনা ও হস্তান্তর শেষে বিশেষ কার্গো বিমানে করে সেটি কেপ কেনাভেরালের লঞ্চ সাইটে পাঠানো হয়েছে।

কীভাবে মহাকাশে পৌঁছাবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১
যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তি কোম্পানি ‘স্পেসএক্স’। মার্কিন এ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ফ্যালকন-৯ রকেট ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরালের লঞ্চিংপ্যাড থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে নিয়ে মহাকাশের পথে উড়াল দেবে। ফ্যালকন-৯ রকেটে রয়েছে চারটি অংশ। এর উপরের অংশে থাকবে স্যাটেলাইট, নিচে অ্যাডাপটর। এরপরই রয়েছে স্টেজ-২। এছাড়া একেবারে নিচের অংশে স্টেজ-১।

উৎক্ষেপণের পরপর স্টেজ ওয়ান চালু হয়ে উপরের দিকে উঠতে শুরু করবে ফ্যালকন-৯। তীব্র গতিতে ছুটবে মহাকাশের দিকে।

তবে উৎক্ষেপণের সময় আগ্রহীদের ক্যানাভেরালের লঞ্চিংপ্যাড থেকে তিন-চার কিলোমিটার দূরে অবস্থান নিতে হবে। উৎক্ষেপণের পর প্রায় সাত মিনিট দেখা যাবে এ রকেট। তীব্র বেগে মহাকাশপানে ছুটতে থাকা এ উচ্চগতির রকেট সাত মিনিট পর অদৃশ্য হয়ে যাবে।  

নির্দিষ্ট সময় পর রকেটের স্টেজ-১ খুলে ক্যানাভেরালের লঞ্চিংপ্যাডে ফিরে আসবে। এরপর চালু হবে স্টেজ-২। পুনরায় ব্যবহারযোগ্য স্টেজ-১ পৃথিবীতে এলেও স্টেজ-২ একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত স্যাটেলাইটকে নিয়ে গিয়ে মহাকাশেই অবস্থান করবে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের প্রকল্প পরিচালক মো. মেজবাহুজ্জামান এ প্রসঙ্গে বলেন, প্রথম ধাপটি হলো লঞ্চঅ্যান্ড আর্লি অরবিট ফেজ (এলইওপি)। দ্বিতীয় ধাপ হচ্ছে স্যাটেলাইট ইন অরবিট। প্রথম ধাপে ১০ দিন এবং পরের ধাপে ২০ দিন লাগতে পারে। লঞ্চিংপ্যাড থেকে উৎক্ষেপণ স্থান ৩৬ হাজার কিলোমিটার দূরে যাবে এ স্যাটেলাইট।

পরে ৩৫ হাজার ৭০০ কিলোমিটার যাওয়ার পর রকেটের স্টেজ-২ খুলে যাবে। স্যাটেলাইট উন্মুক্ত হওয়ার পরপর এর নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি এবং কোরিয়ার তিনটি গ্রাউন্ড স্টেশনে চলে যাবে। ওই তিন স্টেশন থেকে স্যাটেলাইটটিকে নিয়ন্ত্রণ করে এর নিজস্ব কক্ষপথে (১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অরবিটাল স্লট) স্থাপন করা হবে।

বিটিআরসি জানিয়েছে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটি পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ২০ দিন লাগবে। স্যাটেলাইটটি সম্পূর্ণ চালু হওয়ার পর এর নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের গ্রাউন্ড স্টেশনে হস্তান্তর করা হবে। স্যাটেলাইটের গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর ও রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ায়।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে। এর ২০টি বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য এবং বাকিগুলো ভাড়া দেওয়া হবে। সরকার আশা করছে, বর্তমানে বিদেশি স্যাটেলাইটের ভাড়া বাবদ যে ১৪ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সেই অর্থ সাশ্রয় হবে।

এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ডিটিএইচ (ডাইরেক্ট টু হোম) সেবা, স্যাটেলাইট টেলিভিশনের সম্প্রচার এবং ইন্টারনেট সুবিধাসহ ৪০টি সেবা পাওয়া যাবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে শুধু বৈদেশিক মুদ্রাই সাশ্রয় হবে না, সেই সাথে অব্যবহৃত অংশ নেপাল, ভুটানের মতো দেশে ভাড়া দিয়ে প্রতি বছর আয় হবে প্রায় ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। স্যাটেলাইটের আয়ু হবে ১৫ বছর।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের দৃশ্য দেখানো হবে স্পেসএক্স’র ওয়েবসাইটে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে থেকে প্রকাশিত এ উৎক্ষেপণ ও এর পরবর্তী কর্মকাণ্ডের সময়সূচি এবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম পাঠকদের জন্য দেওয়া হলো।

উৎক্ষেপণের সময়সূচি:

রাত ০১.৩৫.০০ - প্রোপিল্যান্ট লোডিং ভ্যারিফাই
রাত ০১.৪৭.০০ - আরপি-১ (রকেট জ্বালানি) লোডিং
রাত ০১.৪৭.০০ - প্রথম পর্যায়ের লিকুইড অক্সিজেন (এলওএক্স) লোডিং
রাত ০১.৫৬.০০ - দ্বিতীয় পর্যায়ের এলওএক্স লোডিং
রাত ০২.০৫.০০ - লঞ্চ পূর্ববর্তী ফ্যালকন-৯ এর ইঞ্জিন শীতলীকরণ
রাত ০২.১১.০০ - চূড়ান্ত উৎক্ষেপণের আগে ফ্লাইট কম্পিউটার চেক
রাত ০২.১১.০০ - প্রপিল্যান্ট ট্যাংক প্রেশারাইজেশন
রাত ০২.১১.১৫ - স্পেসএক্সের লঞ্চ ডিরেক্টর উৎক্ষেপণের চূড়ান্ত ভেরিফিকেশন জানাবেন
রাত ০২.১১.৫৭ - ইঞ্জিন ইগনিশন প্রক্রিয়া চালুর নির্দেশ দেবে ইঞ্জিন কন্ট্রলার কমান্ড
রাত ০২.১২.০০ - ফ্যালকন-৯ উৎক্ষেপণ
 

উৎক্ষেপণ পরবর্তী কর্মকাণ্ডের সময়সূচি:

রাত ০২.১৩.১৪ - রকেট সর্বোচ্চ মেকানিক্যাল স্ট্রেসে পৌঁছাবে
রাত ০২.১৪.৩১ - প্রথম স্টেজের মেইন ইঞ্জিন কাট-অফ
রাত ০২.১৪.৩৩ - স্টেজ দ্বিতীয় থেকে প্রথম স্টেজ আলাদা
রাত ০২.১৪.৩৬ - দ্বিতীয় স্টেজের ইঞ্জিন (এসইসিও-১) চালু
রাত ০২.২০.১০ - প্রথম স্টেজের ল্যান্ডিং
রাত ০২.২০.১৯ - দ্বিতীয় স্টেজের ইঞ্জিন (এসইসিও-১) কাট-অফ
রাত ০২.৩৯.৩৮ - দ্বিতীয় স্টেজের ইঞ্জিন (এসইসিও-২) পুনরারম্ভ
রাত ০২.৪০.৩৭ - দ্বিতীয় স্টেজের ইঞ্জিন (এসইসিও-২) কাট-অফ
রাত ০২.৪৫.৩৮ - বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ডিপ্লয়মেন্ট

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণ উপলক্ষে সরকারের তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, বিটিআরসি চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ এবং আমলারা ইতোমধ্যে ফ্লোরিডায় পৌঁছেছেন।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি