ena
maisha
bioMed

পাহাড়ে রাজনৈতিক হত্যা বন্ধ করতে হবে : আহমদ রফিক

ঢাকা, ১০ মে, এবিনিউজ : আবার অশান্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম। মে মাসের ৪ তারিখে দেশের সব দৈনিক পত্রে শক্তিমান চাকমা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা মোটা হরফের শিরোনামে প্রকাশ পেয়েছে। দিনদুপুরে উপজেলা চেয়ারম্যান হত্যা, তাও তাঁর অফিসের সামনে, অদূরে থানা, স্বভাবতই ঘটনা মানুষকে বিস্মিত করেছে। নিরাপত্তা যে একটি কল্পশব্দ, সেটাই প্রমাণিত হয়েছে এ হত্যাকাণ্ডে। শক্তিমান চাকমা কি তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন না? নাকি নিজেকে অতি শক্তিমান ভেবেছিলেন? হয়তো তাই এমনটা ঘটতে পেরেছে। রাজনীতি যখন জনস্বার্থের নামে আদর্শচ্যুত, পথভ্রান্ত হয়; সেখানে যখন ব্যক্তিগত স্বার্থপরতা বড় হয়ে ওঠে, তখন এমন সব ঘটনা অনিবার্য হয়ে দাঁড়ায়। ঘটতে থাকে বিভাজন ও নরমপন্থার অজুহাতে। আর সেই সূত্রে সহিংসতা ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সূত্র ধরে। সে রাজনীতিকে সুস্থ, জনবান্ধব বলা কঠিন। দূষিত সে রাজনীতি বসতভূমির ক্ষতিই করে, জননিরাপত্তা ও জনস্বার্থের পক্ষে দাঁড়ায় না।

চট্টগ্রামের পাহাড়ি আকাশে কালো মেঘ জমা হচ্ছিল বেশ কিছুকাল আগে থেকেই। সাম্প্রতিক নীরবতা ছিল অশনিসংকেতের কাল। আমি জানি না এ বিষয়ে পক্ষ-প্রতিপক্ষ কতটা অবহিত ছিল। কারণ পাহাড়ি রাজনীতির ইতিহাস অনেক কাল থেকেই ছিল কালো মেঘে প্রশ্নবিদ্ধ। স্বাধীন বাংলাদেশে বামপন্থী রাজনীতিবিদ মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার আবেদন ও প্রতিবাদ সংবাদপত্র ও রাজনৈতিক মহলের অজানা বিষয় ছিল না।

পূর্ববঙ্গে ষাটের দশকের রাজনীতি ও বাঙালিয়ানার উন্মাদনা এবং ১৯৭১ সালে সংঘটিত স্বাধীনতাযুদ্ধোত্তর রাজনীতি ওই বাঙালিয়ানায় সীমাবদ্ধ থেকেছে। এ দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী তাদের প্রাপ্য সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এসব ঘটনা নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিকে যতটা ক্ষুব্ধ করেছে, তার চেয়ে গভীরতর ভিন্ন এক জাতীয়তাবাদী তাড়নার টানে প্রবলভাবে বিক্ষুব্ধ করেছে পাহাড়ি তরুণ প্রজন্মকে। তারুণ্য সর্বদাই ক্ষুব্ধ প্রতিবাদের প্রতীক। তাদের মধ্যে রাজনৈতিক চরমপন্থার প্রবণতাও বেশি শক্তিমান। চট্টগ্রামের পাহাড়ি সমাজের তরুণ প্রজন্ম এদিক থেকে ভিন্ন ছিল না।

এ বিষয়ে এ দেশের শাসকশ্রেণি ততটা সচেতন ছিলেন বলে মনে হয় না। যে শাসকশ্রেণির রাজনীতি মুক্তিসংগ্রামের ক্ষেত্রে জাতীয়তাবাদী চেতনাকে আশ্রয় করে রণাঙ্গনে নেমে বিজয় অর্জন করে, তাঁরা কী এক অদ্ভুত ভিন্নতা বোধে এ দেশেরই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জাতীয়তাবোধের বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্বে আমলে আনেননি। ফলে আরেক আঞ্চলিক সংঘাতের অধ্যায় দেখা দেয়। এ ইতিহাস পুরনো কাসুন্দি ঘাঁটা নয়, বরং সংঘাতের পরবর্তী প্রেক্ষাপট রচনায় নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষেই রাজনৈতিক শুভবুদ্ধির উদয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি নামীয় পাহাড়ি প্রতিনিধিত্বশীল রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। উভয় পক্ষেই স্বস্তির নিঃশ্বাস, সেই সঙ্গে একই মানসিকতায় ভাসে রাজনীতিমনস্ক বাঙালি ও অনুরূপ পাহাড়ি জনগোষ্ঠী (১৯৯৭)। কিন্তু এ শুভবুদ্ধি রাজনৈতিক বস্তবতার পরিচয় দিতে পারেনি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে।

এরপর দীর্ঘ সময় কেটে গেছে। চুক্তির সব কয়টি দফা বাস্তবায়নের পথ ধরেনি। আশ্বাস ও অঙ্গীকারে মন ভরেনি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীগুলোর। এতে বিরূপ ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জন্ম নিয়েছে তরুণ পাহাড়ি প্রজন্মে। জনসংহতি সংগঠনের প্রধান সন্তু লারমা আবেদন-নিবেদন ও নম্র প্রতিবাদে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন। কিন্তু তাতে রাজনীতির বরফ গলেনি। তা বরঞ্চ বেড়েছে, প্রতিক্রিয়ার তীব্রতা ক্রমশ দুর্বল হয়েছে।

কিন্তু তরুণ প্রজন্মের ধাতই আলাদা। যেমন—আমরা দেখেছি পাকিস্তানি শাসকদের কাছ থেকে দাবি আদায়ে বাঙালি তরুণরাই প্রাথমিক পর্যায়ে প্রধান ভূমিকা রেখেছে, বয়সী রাজনীতিকরা নন। পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল না পার্বত্য চট্টগ্রামের তরুণ প্রজন্মের ক্ষেত্রেও। তাদের পূর্ব অনুমানই বাস্তবে সত্যি হতে দেখা গেছে। তারা শুরু থেকেই শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ নেতিবাচক বিবেচনায় মূল সংগঠন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ভিন্ন ধারায় চরমপন্থী রাজনীতির জন্ম দেয়। পাহাড়ি তরুণীদেরও এ পথে হাঁটতে দেখা যায়। অবশ্য সবাই নয়।

গোপন সংগঠন নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির ধার ধারে না। তাদের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে রক্তঝরা যেন এক অবধারিত স্বাভাবিক ঘটনা। এ ক্ষেত্রেও তাই দেখা গেছে। আর ভারতীয় অনুরূপ রাজনীতির পূর্ব ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধারায়ই বোধ হয় এ ক্ষেত্রে ভিন্নমত, ভিন্ন নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক বিভাজন যেন অনিবার্য নিয়তি হয়ে দাঁড়ায়। বলা বহুল্য, সেটা ব্যক্তি-মতামতের ভিন্ন চিন্তার পথ ধরে। সন্তু লারমার নিয়ন্ত্রিত জনসংহতির নিয়মতান্ত্রিক, আপসবাদী রাজনৈতিক তৎপরতা তাদের পছন্দসই ছিল না। সম্ভবত ছিল না পার্বত্য জনগোষ্ঠীর সংখ্যাগুরু মানুষের, বিশেষত তরুণ ও যুবকদের। তাই তিন-চার ভাগে বিভাজিত মূল সংগঠনটি।

এ পরিস্থিতি সেখানকার জনগণের কাম্য ছিল না। রাজনীতির জন্য, জনগণের জন্য তা কোনো প্রকার শুভ সংকেতবাহীও ছিল না। আরো তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা, বিভাজিত দলগুলোর নেতাদের কারো কারো মধ্যে দেখা গেছে আপসবাদ, ব্যক্তিগত প্রাপ্তি ও স্বার্থপরতার প্রকাশ। ঐক্যের বদলে অনৈক্যই প্রধান হয়ে দাঁড়ায়। মতের অমিল ও ব্যক্তিস্বার্থ কাউকে কাউকে দিকভ্রষ্ট করে।

দুই.

এ পর্যায়ে দেখা যায়, শক্তিমান চাকমা তাঁর সংগঠনটির মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির পথ ধরে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জনপ্রতিনিধি হতে দ্বিধা করেননি। আরেকজন সাবেক জনসংহতি নেতা তপন জ্যোতি চাকমা, যিনি মূল সংগঠন থেকে বেরিয়ে এসে গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফ নামক উদারপন্থী দল গঠন করেছিলেন। তাঁর সঙ্গে রাজনৈতিক যোগসূত্র ছিল শক্তিমান চাকমার সংগঠনটির। কী আশ্চর্য, এরা সবাই মূলত ইউপিডিএফ, কিন্তু আচার-আচরণে ভিন্ন।

এই বিভাজন পাহাড়ি জনস্বার্থের অনুকূল ছিল না। অসহায় জনতা চেয়ে চেয়ে হতাশ হয়েছে নেতাদের কার্যকলাপে। নিশ্চিত বলা মুশকিল, তাদের প্রধান সমর্থন কোন দিকে ছিল? অনুমান করা চলে তাঁরা, বিশেষত বয়সীরা বোধ হয় শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে সমস্যা সমাধানের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু তরুণ প্রজন্ম ও যুবক-যুবতী? তাদের সমর্থন, সক্রিয় বা পরোক্ষ দুই-ই বোধ হয় ছিল চরমপন্থীদের দিকে। এর কারণ আপসবাদীদের ব্যর্থতা।

এরই মধ্যে গড়ে ওঠে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি নারীদের রাজনৈতিক সংগঠন, যেখানে ছিল তরুণী ও যুবতীদের প্রাধান্য। আর সেই সূত্রেই ঘটে নিয়তি নির্ধারিত তীরন্দাজির মতো ঘটনা—অপহরণ, অনেকটা কল্পনা চাকমার মতোই। কিন্তু এবার বোধ হয় তাঁরা রাজনৈতিক বিরোধের শিকার। এঁদের নাম মন্টি চাকমা ও দয়াসোনা চাকমা। অভিযোগ ওঠে, এর পেছনে হাত রয়েছে শক্তিমান চাকমা ও তপন জ্যোতি চাকমার। তাঁরা যথারীতি এ অভিযোগ অস্বীকার করেন কোনো এক তৃতীয় শক্তির দিকে আঙুল তুলে।

এখন প্রশ্ন, শক্তিমান চাকমা ও তপন জ্যোতি চাকমার পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি ওই অপহরণের জের, নাকি স্থানীয় সরকারের নির্বাচনটি প্রতিযোগিতাহীন করার ভিন্ন কোনো পরিকল্পনার বাস্তবায়ন। দুই অপহৃতার ক্ষেত্রে যেমন তৃতীয় শক্তির কথা উঠেছিল, এবারও তৃতীয় পক্ষের কথা তুলে জল ঘোলা করা হচ্ছে।

তবে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো হত্যার মোটিভ, যা গোয়েন্দারা বলে থাকেন, অর্থাৎ হত্যাকাণ্ডে কার বা কোন পক্ষের লাভ, সেটাই বড় বিবেচ্য বিষয়। সেটা এ মুহূর্তে স্পষ্ট বোঝা না গেলেও তার ইঙ্গিত মিলতে পারে নির্বাচন ঘোষণার পরপরই। এখন একে অন্যকে দোষারোপ করে চলেছেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা জোরালো ভাষায় তা অস্বীকার করছেন।

যেমন—তপন জ্যোতির একজন নেতা শ্যামল চাকমা এসব হত্যাকাণ্ডে ইউপিডিএফ জড়িত বলে দাবি করেন। জনসংহতি সমিতির অভিমতও ভিন্ন নয়। শান্তিচুক্তি পক্ষের নেতৃত্ব শান্তিচুক্তিবিরোধীদের এ ব্যাপারে দায়ী করবেন, এটাই হয়তো স্বাভাবিক। কিন্তু প্রশ্ন থাকে, ঘটনার এত দিন পর কেন? শান্তিচুক্তির কাল থেকে তো প্রায় দুই দশক সময় পার হয়ে গেছে।

তা ছাড়া শান্তিচুক্তি তো বাস্তবায়িতই হয়নি, জনসংহতি সমিতি ও সংশ্লিষ্টরা তার ফলভোগী হতে পারেনি। সে ক্ষেত্রে এত দিন পর হত্যার পক্ষে যথেষ্ট যুক্তি ধোপে টেকে না। শান্তিচুক্তিই যদি হত্যাকাণ্ডের মোটিভ হয়, তাহলে তো সন্তু লারমাই হওয়া উচিত প্রথম ও প্রধান টার্গেট। এ প্রসঙ্গে অভিযোগ উঠে এসেছে, বহুধাবিভক্ত জনসংহতি সমিতির আরেক বিচ্ছিন্ন সংগঠনের নেতা প্রমিত বিকাশ খীসার নাম। বলা হয়েছে, তাঁর নির্দেশেই এসব খুন। তাহলে কি রাজনৈতিক কর্তৃত্বই এসবের কারণ?

এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপিডিএফের নেতারা। তাঁদের মতে, দলগুলোর মধ্যকার অন্তর্দ্বন্দ্বই এসব হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হত্যাকাণ্ডের দায় অন্যদের কাঁধে চাপানো হচ্ছে। এরা সবাই তাত্ক্ষণিক কারণ নিয়ে ব্যস্ত। কেউ ওই দুই তরুণী অপহরণ (বরং সম্ভবত হত্যার সম্ভাব্য নায়কদের) সম্পর্কে এখন আর কোনো প্রশ্ন তুলছে না।

তাদের দৃষ্টি উপজেলা প্রশাসনসংশ্লিষ্ট নির্বাচনের দিকে, যেখানে আবারও প্রার্থী হতে যাচ্ছিলেন শক্তিমান চাকমা। একটি বিষয় লক্ষ করার মতো যে নিহত দুই নেতার কেউ তাঁদের ওপর হামলার বিষয়ে সন্দিহান ছিলেন না। থাকলে শক্তিমান যেমন তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা জোরদার করতেন, তেমনি করতেন তপন জ্যোতি। এমনকি তিনি হয়তো শক্তিমানের শেষকৃত্যে সঙ্গী হতেন না। এ সবই অনুমান ও সম্ভাবনার কথা।

তাহলে প্রশ্ন, কে বা কারা নিপুণ পরিকল্পনার জাল বিছিয়ে এই দুই নেতাকে আরো চারজন সঙ্গীসহ ঠাণ্ডা মাথায় খুন করেছে চৌকস কায়দায়? দুই ঘটনায়ই এ পর্যন্ত কেউ ধরা পড়েনি। আরো একটি প্রশ্ন এ ক্ষেত্রে খুব অর্বাচীন চরিত্রের নয়। যারাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকুক তারা কি নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিকে নেতৃত্বহীন বা সেখানে শূন্যতা সৃষ্টি করতে চেয়েছে।

তাহলে এরা কারা, কোন রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারী?

তিন.

পার্বত্য চট্টগ্রাম হঠাৎ করেই নতুনভাবে সন্ত্রাসের রক্তাক্ত ভূমিতে পরিণত হয়েছে। হয়ে উঠেছে ক্ষমতা ও আধিপত্যের লড়াইয়ের অবাঞ্ছিত ক্ষেত্র। সে ক্ষমতা ও আধিপত্য নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক চরিত্রের। যে কজন তরুণ ও যুব নেতার তাড়নায় জনসংহতিবিরোধী চরমপন্থী রাজনীতির বিকাশ ঘটে (পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন), সাংগঠনিক বিভক্তির পরও তারা কিন্তু শক্তিহীন নয়। অস্ত্রই তাদের শক্তি।

চাঁদাবাজি, মাদক কারবারের মূলে নিত্যনতুন অত্যাধুনিক অস্ত্র ক্রয়ের মাধ্যমে তাদের চরমপন্থী রাজনীতি অব্যাহত রয়েছে। তার চেয়েও বড় বিষয় হলো তাদের পেছনে তরুণ প্রজন্মের সমর্থন অপেক্ষাকৃত বেশি। এরা কি চারু মজুমদারের খতমের রাজনীতির ভিন্নমাত্রিক ধারার অনুসারী? প্রচলিত নেতৃত্বের শূন্যতা কি এদের আকাঙ্ক্ষিত? কারণ পার্বত্য চট্টগ্রামে সীমিত পাহাড়ি জনসংখ্যার শিক্ষার যা অবস্থা, তাতে নতুন নেতৃত্ব চট করে গড়ে তোলা কঠিন। তা হলে?

প্রশ্নটার জবাব এখানেই রহস্যের বেড়াজালে আটকে পড়ে। কারণ আমরা আগেই বলেছি, খতম যদি করতেই হবে, তাহলে এত বছর পরে কেন? কিংবা সন্তু লারমাকে নয় কেন? আপাতত এ প্রশ্নের জবাব মিলছে না। এ পর্যন্ত ঘটিত হত্যাকাণ্ডের নায়ক হিসেবে কাউকে আটক করা হয়নি, কোনো মামলাও হয়নি। তবে প্রশাসনের উচিত, তাদের সব শক্তি ও দক্ষতা দিয়ে এ হত্যা রহস্যের সমাধানে এগিয়ে আসা। আর নিশ্চিত করতে মানুষের নিরাপত্তা।

মানুষ আতঙ্কে। তাদের আতঙ্কমুক্ত করার দায় প্রশাসনের, নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। হয়তো তারা এ কাজে অগ্রসর হবে যথারীতি। তবে হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে আমাদের শেষ প্রশ্ন ও ভাবনা হলো, শক্তিমান-তপন জ্যোতিরা কি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যথেষ্ট শক্তিমান হয়ে উঠেছিলেন যে প্রতিপক্ষ তাদের সরিয়ে দিয়েছে আত্মপ্রতিষ্ঠার পথ মসৃণ করতে? আর সন্তু লারমা কি এখন নখদন্তহীন বাঘ যে তাঁকে নিয়ে না ভাবলেও চলে?

এ প্রশ্নগুলোর জবাব ও সংশ্লিষ্ট ভাবনার মধ্যে রয়েছে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মোটিভ এবং তাতেই জানা যাবে রাজনীতির কোন অংশটি অদূর ভবিষ্যতে পাহাড়ি জনসমাজে আধিপত্য বিস্তার করতে যাচ্ছে। (কালের কণ্ঠ থেকে সংগৃহীত)

লেখক : কবি, গবেষক, ভাষাসংগ্রামী