ena
maisha
bioMed
ব্রেকিং নিউজ

নরসিংদীর মাধবদীতে ইউপি নির্বাচনে জাল ভোটে বাধা: প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম

নরসিংদী, ১৬ মে, এবিনিউজ : নরসিংদীর মাধবদীতে ইউপি নির্বাচনে জাল ভোটে বাধা দেয়ার জের ধরে দুই  ব্যাবসায়ীকে প্রকাশ্যে দোকানে ঢুকে কুপিয়ে জখম করেছে মাধবদী পৌর মেয়রের ভাগ্নে আরিফ।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেল তিনটার দিকে মাধবদী বাসষ্ট্যান্ডে  মিতালী হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এদিকে মুমূর্ষু অবস্থায় মিতালী হোটেলের মালিক ও তার ছেলে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। আহতরা হলো পরাজিত ইউপি সদস্য প্রার্থী নাজমা আক্তারের ছেলে জাহিদ হাসান, তারা বাবা আলী আজগর ও চাচা শফিকুল ইসলাম।

পুলিশ ও আহতদের পারিবারিক সূত্রে জানাযায়, গত  ৭মে মাধবদী নূরালাপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা  ইউপি সদস্য হিসেবে নিবাচন করেন সেলিনা। প্রতিদন্দী হিসেবে নির্বাচন করেন মিতালী হোসেলের মালিকের সহধর্মীনি নাজমা আক্তার।

নির্বাচন চলাকালিন সময়ে প্রার্থী সেলিনার পক্ষে তার ছেলে শামীম জাল ভোট প্রদান করছিল। এতে বাধা দেয় প্রতিদন্ধী প্রার্থী নাজমা আক্তারের ছেলে জাহিদ হাসান। ওই সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। 

বিষয়টি স্থানীয় ভাবে মিমাংশার আশ্বাস দিয়ে উভয় পক্ষকে নিভৃত করেন। শামীম মাধবদী পৌর মেয়র  মোশারফ হোসেন মানিকের ভাগ্নে আরিফ হোসেনের ঘনিষ্ট বন্ধু। শামীম বিষয়টি মাধবদী পৌর মেয়রের  ভাগ্নে আরিফকে জানান।

এ দন্ধের জের ধরে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে আরিফ,শামীম ও আমানুল্লার নেতৃত্বে ৬/৭ জন লোক  মাধবদী বাসষ্ট্যান্ডে  মিতালী হোটেলে গিয়ে দোকানের মালিক ও নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী নাজমা আক্তারের স্বামী আলী আজগর তার ছেলে জাহিদ হাসানের উপর অতরাহিত্য  হামলা চালায়।  এসময় তারা জাহিদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে কুপাতে থাকে।

এতে ধাধা দেয় তার বাবা ও চাচা। এসময় প্রতিপক্ষরা তাদেরকেও পিটিয়ে গুরুত্বর জখম করেন। পরে শামীম  রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পরে। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মাদবদী প্রাইম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাদের ঢাকায় প্রেরন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

আহতদের স্বজন সেকান্দর আলী বলেন, মেয়রের ভাগ্নে আরিফ,শামীম ও আমানুল্লার নেতৃত্বে দোকানে হামলা চালানো হয়। তার আমার ভগ্নিপতি ও ভাগ্নেকে কুপিয়ে গুরুত্বও জথম করেন। মুমূর্ষু অবস্থায় তাদের ঢাকায় প্রেরণ করা হয়।

এ ব্যপারে অভিযুক্ত মেয়রের ভাগ্নে আরিফ হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি হোটেলে খাচ্ছিলাম। হঠাৎ গন্ডোগোল দেখে আমি তাদের সরিয়ে দেই। এ ঘটনার সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. ইলিয়াস মিয়া বলেন, ইউপি নির্বাচনের দন্ধের জের ধরে আরিফের নেতৃত্বে দোকানে দুই ব্যাবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এবিএন/সুমন রায়/জসিম/নির্মল