ena
maisha
bioMed
ব্রেকিং নিউজ

ওমর কায়সার’র কবিতা

বিজলী আঁকা খামে

বিজলী আঁকা খামে
ওমর কায়সার

কে যেন আজ লিখল চিঠি বিজলি আঁকা খামে

কোন্‌ আকাশের ওপার হাতে হঠাৎ বৃষ্টি নামে।

চোখের পাতা এক হয় না ভিজছে একা রাত্রি

একটি শিশুর জন্ম হবে অপেক্ষমান ধাত্রী।

ভাঙছে আকাশ, কাঁদছে মাটি নতুন দুয়ার খুলছে

গভীর জলের অতল থেকে কে যেন মুখ তুলছে।

মেঘের শরীর জল থৈ থৈ বজ্রে আঁকা মুখ

তোমায় পেতে এক পৃথিবীর সুরগুলো উন্মুখ

ছন্দে গাথা কান্না হাসি আর্দ্র হৃদয় পর্বে

কাব্য শিশুর দুঃখগুলো তোমরা কি কেউ পড়বে?

একটি দশকের গল্প

আমিতো রুমাল হতে চেয়েছি তোমার ঘ্রাণের বিস্ময়ে।

প্রতিদিন ধুলোজমা পাঁজরের ইতিহাস লেখা হয় টিস্যুর কাগজে

সকালের প্রান্ত ভাগে শুয়ে থাকে রোদের কঙ্কাল

তোমাকে পাব কি এই একবিংশে?

অভিমান – একটি দলিত শব্দ

মাছের গুঞ্জন হয়ে পড়ে থাকে জলের অতলে।

আমি এই দশক থেকে লাফ দিয়ে শূন্যে চলে যাব

ভালোবাসা শব্দটিকে ছুঁড়ে দেব বুদ্বুদে

এই ভেবে চুরাশি, তিরাশি সাল অবিরাম মাথা খুটেছিল।

আর একটি বিশ্বস্ত রুমাল সমস্ত রক্তের দাগ মুছে ফেলে

দীর্ঘশ্বাসে মিশে গিয়েছিল।

পাতার মর্মরে কাঁদে স্মৃতিভ্রষ্ট আশির দশক।

ঈশ্বরের কষ্ট

কারা যেন আমাকে ঈশ্বর বানিয়ে

দেবালয়ে ফেলে রেখে গেছে ।

বাইরের আগল খুলে

মাঝে মাঝে কেউ কেউ আসে।

তারপর চোখ বন্ধ করে

দ্রুত উচ্চারণ করে যায় মুখস্থ মন্ত্রগুলো।

কেননা তখন

বাইরে তাদের বন্ধুরা অপেক্ষায় থাকে।

খুনের রহস্য

চোখ দেখে বুঝে নিতে পারি

কবে তুমি ভালোবেসেছিলে।

বহু চিহ্ন পড়ে আছে জব্দ তালিকায়

রাত্রির বৃন্তচ্যুত সন্ধ্যার কাঁচুলিতে আঙুলের ছাপ।

তারও আগে সহজ শিথিল বিকেলের কাঁধে জমাট প্রশ্রয়,

নীরব ও ঘন হতে থাকা দেবদারুদের দীর্ঘশ্বাস,

সান্ধ্যভাষায় কিছু অশ্রাব্য কথার মা।

রক্তের উষ্ণতা মেপে

বৃষ্টির সমূহ জলে চুম্বনের গন্ধ খুঁজে খুঁজে

বের করে নিতে পারি

কবে আমি যথার্থই খুন হয়ে গেছি।

পাগলা যদি ক্ষেপে যায়

নড়বড়ে সেতু নড়েচড়ে যাবে

দুলে দুলে উঠে ভাঙবে

হঠাৎ সকাল চেহারা বদলে

রক্তের রঙে রাঙবে।

কথাগুলো সব বাক্য হারাবে

পা হয়ে যাবে টলমল

ঘুমহীন চোখ জ্বলে জ্বলে উঠে

দীপ্তি ছড়াবে ঝলমল।

নির্জন বনে, মনে অগোপনে

বেজে বেজে যাবে করতাল

মুখর স্লোগানে হৈ হৈ রবে

গ্রহজুড়ে হবে হরতাল।

পাহাড়ের গান গড়িয়ে ছড়িয়ে

নদীতে সাঁতার কাটবে

পাগলা ওমর ক্ষেপে যায় যদি

শব্দের বোমা ফাটবে।

(সংগৃহীত)